তিনি গতানুগতিক ধারার বাইরে নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। সৃজনশীলতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন নাটক ও চিত্রনাট্য রচনায়ও। তাঁর নির্মিত বিজ্ঞাপনচিত্রও ভিন্নধর্মী। ‘মেঘদল’ ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে গানের জগতেও তাঁর সৃষ্টিশীল পদচারণা।
তিনি মেজবাউর রহমান সুমন। তাঁর নির্মিত টিভি নাটক ‘তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’ (২০০৯), ‘তারপর পারুলের দিন’ (২০০৮), ‘নুসরাত, সঙ্গে একটি গল্প’ (২০০৭), ‘শহরতলীর গল্প’ (২০০৭), ‘দখিনের জানালা খোলা আলো আসে আলো যায়’ (২০০৬), ‘আমি অরুণার কাছে যাচ্ছি’ (২০০৫) দর্শকনন্দিত হয়েছে, সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়েছে। আর ২০২২ সালে অভিষেক চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’-র মাধ্যমে তিনি নতুন হাওয়া বইয়ে দিয়েছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে।
এবার মেজবাউর রহমান সুমন নির্মাণ করেছেন নতুন একটি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে বছর তিনেক আগে ‘অন্যদিন’-কে সুমন জানিয়েছিলেন—“আমার পরের সিনেমায়ও কোনো গল্প নেই। কারণ সিনেমায় যে ফিকশনাল মারপ্যাঁচ থাকে, সেটা আমি বিশ^াস করি না। বহমান জীবনের ভেতর অনেককিছু ঘটে যায়। সেটা আমরা দিব্যদৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করি। সেখানকার দ্বান্দ্বিক আবেগগুলোর কথা ভাবি। কারণ একটা মানুষের জীবনটাই ভয়ংকর রকমের ফিকশনাল। আলাদা গল্পের দরকার পড়ে না। তাই আমার পরের সিনেমায় কোনো গল্প নেই। সেটি মৌলিক চিত্রনাট্য। এই সিনেমাটি মাঝবয়সী এক দম্পতির গল্প। এই দুজনের জীবন দেখাব। একই ঘটনা যে তাদের জীবনে অসংখ্যবার ঘটছে এটাই দেখাতে চাই। এটা ‘হাওয়া’ থেকে একেবারেই ভিন্ন একটা গল্প। দর্শক আরেক ধরনের আনন্দ পাবে। সেখানে শিক্ষামূলক কিছু থাকবে না, তবে জীবন থাকবে। দর্শক জীবনের গভীরতা খুঁজে পাবে। কারণ এটা আমার খুব কাছ থেকে দেখা একটা জীবনের গল্প।”

মেজবাউর রহমান সুমনের পরিকল্পিত সেই নতুন সিনেমা ‘রইদ’ মুক্তি পাচ্ছে এবারের ঈদুল আজহাতে। তাঁর এই নতুন সিনেমা ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শক ও চলচ্চিত্র মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
সুমন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘রইদ’ সম্পর্কে কিছুটা আভাস দিয়েছেন। বলেছেন ‘রইদ’ একটি প্রতীকী ও বহুমাত্রিক আখ্যান। এখানে সাধু, তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। এই দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।
সুমনের ভাষ্যে, এই চলচ্চিত্রে তিনি হাজার বছরের পুরোনো আখ্যানকে সমসাময়িক অনুভূতির ভেতর দিয়ে পুনর্নিমাণ করার চেষ্টা করেছেন। এতে গ্রামীণ বাংলার নান্দনিকতা ও চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পভাবনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘রইদ’-এর টিজার প্রকাশিত হয়েছে; প্রকাশিত হয়েছে একটি গান। টিজারে ছবিটির চিত্রগ্রহণ, শব্দ, সংগীত, অভিনয়, কালার গ্রেডিশন, লোকেশন—সবই মনোমুগ্ধকর। এছাড়া ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ গানটির কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার ‘সহজিয়া’ ব্যান্ড-এর ভোকাল রাজীব আহমেদ রাজু। এই গানে বহুমাত্রিতা রয়েছে। জীবন, দর্শন ও রহস্যময়তা—সব একাকার।
চলচ্চিত্রটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ‘রইদ’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশনে’ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয়। এটি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply
Your identity will not be published.