আশা ভোঁসলে : বহুমাত্রিক এক সংগীত প্রতিভা

আশা ভোঁসলে  : বহুমাত্রিক এক সংগীত প্রতিভা

সম্প্রতি অনন্তলোকে চলে গিয়েছেন আশা ভোঁসলে। তিনি নেই, তবু তিনি আছেন। তাঁর গান রয়েছে। অসংখ্য গান। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ নিচের এই লেখাটি পত্রস্থ হলো। লিখেছেন রওশন মোমেন।

 

জন্ম ও পরিবার

আশা ভোঁসলে ভারতের সঙ্গিল রাজ্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্রে) গৌড়ে জন্মগ্রহণ করেন এক সংগীত পরিবারে, ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। তাঁর পিতা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। তিনি অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করায় আশা ভোঁসলের পরিবার পুনে থেকে কোহলাপুর এবং পরে মুম্বাইয়ে চলে আসে। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আশার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর চলচ্চিত্রে গান গাওয়া ও অভিনয় শুরু করেন। পরে আশা নিজেও বড় বোনকে অনুসরণ করেন। তাঁর গাওয়া প্রথম গান হলো ‘চল চল নব বল’ (মারাঠি চলচ্চিত্র : মাঝা বল)। সেটি ছিল ১৯৪৩ সাল। হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৪৮ সালে। গানটি ছিল ‘চুনারিয়া’ সিনেমার ‘সাবন আয়া’। তিনি প্রথম এককভাবে হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন ‘রাত কী রানী’ (১৯৪৯)-ছবিতে।

 

জীবন এক যুদ্ধ

আশা ভোঁসলে সংগীত জগতে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন অনেক সংগ্রাম করে। অনেক ঝড়-ঝাপটা এসেছে। প্রথম স্বামী গণপাতরাও ভোঁসলের সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন সন্তানদের নিয়ে। সন্তানদের মানুষ করার জন্য বাছ-বিচার না করেই বিভিন্ন ছবিতে গান করেছেন, তবু ভেঙে পড়েন নি। পরে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হলেও প্রথম স্বামীর পদবি ‘ভোঁসলে’ পরিবর্তন করেন নি। কেননা  ভালোবেসে তিনি বিয়ে করেছিলেন ভোঁসলেকে, তাঁর সন্তানের মা হয়েছিলেন। একজন ঘরনি হিসেবেই তিনি জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আশার স্বামী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই গান গাইতে তাঁকে বাধ্য করেছিলেন। প্রায় জোর করেই হাজির করেছিলেন বিভিন্ন সংগীত পরিচালকদের কাছে। অনেক সময় আশা হতাশ হলেও তাঁর স্বামী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন ‘দানা ফেলে যাও। আজ হোক বা কাল, পায়রা আসবেই।’ তাই জীবনে প্রতিবার বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিখ্যাত কবি রাম গণেশ গড়করি’র কবিতার একটি লাইন ‘যব তক জিন্দা রহেনে মে মজা হ্যায়, তব তক মরণে মে ভি মজা হ্যায়।’ তাই দেরিতে হলেও তিনি সাফল্য ঠিকই পেয়েছেন। কেননা তিনি মাটি কামড়ে থেকেছেন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটে যান নি। লড়াই করেছেন। মন দিয়ে নিজের কাজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে  আশা ভোঁসলে বলেছেন : “আমি ইগোইস্ট নই। স্বভাবে বিনীত। আমি ‘গোরা’, ‘কাদম্বরী’ পড়ে শিখেছি, দুনিয়ায় কোনো জাত নেই। কোনো ধর্ম নেই। জেনেছি, সব মানুষই এক। এ-ও জেনেছি, লড়াই-ই আমার ধর্ম। লড়াই আমার একমাত্র অস্ত্র। নিজেকে নিজে অস্ফুটে বলেছি, আশা যত অত্যাচার তোমার ওপর হোক, কখনো হার মেনো না। যত বাধা আসুক—যতই তোমার উপরে যাওয়া ওরা আটকাতে চেষ্টা করুক, তুমি তোমার কাজ থেকে চোখ সরিয়ো না। ওরা আঁচড়াবে, কামড়াতে চেষ্টা করবে, কিন্তু তুমি মন দিয়ে কাজটা করে যাও, দেখবে ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকবেন।”

আশা ভোঁসলে যে একজন প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, এটা কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন কয়েকজন মানুষ। যেমন, শাম্মী কাপুর, মান্না দে। মান্না দে বলতেন, “আশাই সর্বকালের সেরা। এত বৈচিত্র্য লতারও নেই।” আর যারা তাঁর ওপর অন্যায় করেছিলেন, তাঁকে দিয়ে খুব একটা গান করান নি, সেই নওশাদ কিংবা মজরুহ সুলতানপুরিও একসময় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন আশার কাছে। ওই সুরকাররা সব সময় আশার বড় বোন লতাকেই প্রাধান্য দিতেন। অবশ্য এর জন্য দুই বোনের সম্পর্ক খারাপ হয় নি। যে যার নিজের কাজ করে গিয়েছেন। লতা কখনো টিপসও দেন নি বোনকে। আশা নিজেই প্রচুর ইংরেজি মিউজিক্যাল ছবি দেখতেন। সেইসব সুরকে আত্মস্থ করতেন ইংরেজি স্টাইলের সঙ্গে।  নিজেকে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করতেন। লতা ও আশা প্রসঙ্গে সংগীত সমালোচক অতনু চক্রবর্তী বলছেন : “দুজনের জীবনযাত্রার স্টাইলে যেমন, গাইবার মৌলিকত্বের তেমনই ফারাক বিস্তর। প্রথম পর্বের কষ্টসহিষ্ণুতা এবং প্রতিষ্ঠা অর্জনের লড়াই পর্ব বাদ দিলে লতার সাফল্য সরলরৈখিক, কেবল ঊর্ধ্বমুখী এবং উপচে পড়া প্রাপ্তির উৎসব। অন্যদিকে আশার কেরিয়ার দীর্ঘ লড়াই করে ওপরে ওঠার। দুজনের অর্ধশতাব্দীর পেশাদার জীবনে প্রথম কুড়ি বছর লতার হলে, পরের কুড়ি বছর দুজনেরই এবং পরবর্তী বছরগুলো সাফল্যের নিরিখে আশার মুঠোয়।”

 

হিন্দি গান

হিন্দি গানের জগতে আশা ভোঁসলের কেরিয়ারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো—চারটি চলচ্চিত্র : ‘নয়া দৌড়’ (১৯৫৭), ‘তিসরি মঞ্জিল’ (১৯৬৬), ‘উমরাও জান’ (১৯৮১), ‘রঙ্গীলা’ (১৯৯৫)। আর এই চারটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন চারজন প্রথিতযশা সংগীত পরিচালক। তাঁরা হলেন—ও পি নাইয়ার, রাহুল দেব বর্মণ, খৈয়াম এবং এ আর রহমান।

হিন্দি সিনেমার জগতে আশাকে প্রতিষ্ঠিত করেন ও পি নাইয়ার। তাঁর সুরে আশা প্রথম গেয়েছিলেন ‘মঙ্গু’ ছবিতে, পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝিতে। গানটি ছিল ‘মন মেরে গা ঝুমকে’। তবে ও পি নাইয়ার ও আশা ভোঁসলের রসায়ন সবাই মাত করে দিয়েছিল ‘নয়া দৌড়’ ছবিতে। এই ছবির ‘উড়ে যব জুলফে তেরি’, ‘মাঙ্গকে সাথ তুমহারা’, ‘রেশমি শালওয়ার কুর্তা জালিকা’, ‘সাথী হাথ বাড়ানা’ প্রভৃতি গানগুলো দর্শকশ্রোতাদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছিল। এরপর আরও কয়েকটি ছবিতেও পি নাইয়ারের সুরে আশা ভোঁসলে বহু গান গেয়েছেন। ছবিগুলো হলো— ‘এক মুসাফির এক হাসিনা’, ‘ফির ওহি দিল লায়া হু’, ‘কাশ্মির কি কলি’, ‘মেরে সনম’, ‘ইয়ে রাত ফির না আয়েগী’, ‘মোহব্বত জিন্দেগি হ্যায়’, ‘শাওন কি ঘটা’, ‘হাম রাজ’। ও পি নাইয়ারের সুরে আশা ভোঁসলে শেষ গান গেয়েছেন ১৯৭৩ সালে, ‘চৈন সে হামকো কাভি’ ছবির ‘প্রাণ যায়ে পার বাচান না যায়ে’। এই গানের সূত্রে সেই সময়ে আশা বর্ষসেরা প্লেব্যাক গায়িকার পুরস্কার পেয়েছিলেন।

১৯৬৬ সালে আশার সামনে খুলে গিয়েছিল আরেকটি রাজপথ—রাহুল দেব বর্মণ। রাহুল শুধু তাঁর স্বামীই ছিলেন না, তাঁর সুরে বহু সিনেমার বহু জনপ্রিয় গান গেয়েছেন আশা। এই দুজনের পথচলা শুরু হয়েছিল ‘তিসরি মঞ্জিল’ থেকে। পরে ‘ক্যারভান’, ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’, ‘আপনা দেশ’, ‘ইয়াদো কি বারাত’, ‘সীতা আউর গীতা’, ‘সমাধি’, ‘শান’ ইত্যাদি ছবিতে রাহুলের সুরে আশা বহু গান গেয়েছেন।

আশার জীবনে আরেকজন উল্লেখযোগ্য সংগীত পরিচালক হলেন খৈয়াম। তাঁর সঙ্গে আশা প্রথম কাজ করেন ১৯৪৮ সালে। ‘বিবি’ ছবিতে। এরপর ‘দর্দ’, ‘ফির সুবাহ হোগি’সহ আরও কয়েকটি ছবিতেও কাজ করেছেন তাঁরা। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো ‘উমরাও জান’।

এ আর রহমান ও আশা ভোঁসলের জুটিও শ্রোতাদর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এই জুটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘রঙ্গীলা’ (১৯৯৪) ছবির মাধ্যমে। এই ছবির ‘তানহা তানহা’ ও ‘রঙ্গীলারে’ গান দুটি চারদিকে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এছাড়া ‘লাগান’, ‘তাল’, ‘দাউদ’, ‘ইরুভার’, ‘আলাইপাইযুদে’, ‘মীনাক্ষী’ ছবির কথাও বলা যায়।

বলা যায়, ক্ল্যাসিক ঘরানার হিন্দি গান যেমন গেয়েছেন আশা, তেমনি  আমজনতার মনোরঞ্জনের জন্য গেয়েছেন চটুল গান। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘উশকো সে হামনে তসবীর বনায়ী হ্যায়’ (দেখ কবিরা রোয়া), ‘কিতনা হাসীন হ্যায় জওয়াঁ’ (মিস্টার এক্স), ‘কুছ দিন পাহলে এক তাল মে কমল কুঞ্জ কে আন্দার’ (লাজবন্তী), ‘অ্যায় গম-য়ে দিল ক্যা করু’ (ঠোকর), ‘মুঝে গলে সে লাগালো’ (আজ আউর কাল), ‘ও মেরে সোনারে’ (তিসরি মঞ্জিল), ‘জানোবালে ও মেরা প্যার’ (গীত গায়া পাথ্বেরোনে), ‘ইয়ে রাতেঁ ইয়ে মৌসম’ (দিল্লি কা ঠগ), ‘তেরি নিগাহোঁ মে’ (বাহানা), ‘না যাও সইয়াঁ (সাহিব বিবি আউর গুলাম), ‘খত লিখদে সাবরিয়া কে নাম’ (আয়ে দিন বাহার কে), ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায় আপ মেরি জান লিজিয়ে’ ও ‘ইন আখোকি মস্তি’ (উমরাও জান), ‘ধীরে চলে’ (রুদালি), ‘মেরে কুছ সামান তুমহারে পাস হ্যায়’ (ইজাজত), ‘ঝুঠে নয়না’ (লেকিন), ‘চোরি চোরি শোলাহ শিঙ্গার’ (মনোরঞ্জন) এমন আরও বহু গানের তালিকা করা যায় যা হিন্দি ছবির গানের ধারাবাহিকতায় আশার গাওয়া ক্ল্যাসিক এবং যে-কোনো প্লে-ব্যাক গাইয়ের কাছ ঈর্ষণীয়। অন্যদিকে ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু’, ‘চুরা লিয়া’, ‘হুজুরেওয়ালো’, ‘জানে জাঁ’, ‘রাত বাকি’, ‘ইয়ে লাড়কা হ্যায় আল্লা’—এমন অসংখ্য গানে আশার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না সেই সময়ে।

 

বাংলা গান

আশা ভোঁসলে ১৯৫৯ সালে প্রথম বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য প্লেব্যাক করেন, প্রফুল্ল চক্রবর্তী পরিচালিত ‘গলি থেকে রাজপথ’ ছবিতে। তবে তিনি পাদপ্রদীপের আলোর সামনে উঠে আসেন ‘নেই নেই পূর্ণিমা চাঁদ’ (রাজকন্যা) এবং ‘মনের মানুষ ফিরল ঘরে’ (কাল তুমি আলেয়া) গান দুটির মাধ্যমে।

আড়াই শ’র অধিক বাংলা চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন আশা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—‘মন নিয়ে এক মরব নাকি শেষে’ (বাঘিনী); ‘দীপ জ্বেলে ওই তারা’ (মন নিয়ে); ‘গুন গুন গুন কুঞ্জে’ (রাজকুমারী); ‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’ (প্রথম কদম ফুল); ‘আমি আপন করিয়া’ (মেঘ কালো); ‘আজ দুজনে মন্দ হলে’ (ফরিয়াদ); ‘মন মেতেছে মনময়ূরীর কি খেলায়’ (পিকনিক); ‘সাগর ডাকে’ ও ‘রাত এখনো অনেক বাকি’ (জীবন সৈকতে); ‘আরও দূরে চলে যাই’, ‘আমার দিন কাটে না’ (ছদ্মবেশী); ‘আমি অন্ধকারের যাত্রী’ (এপার ওপার); ‘কুঞ্জবিহারী হে গিরিধারী (মায়ের আশীর্বাদ); ‘সাইরা যা, রে যা (অভিশপ্ত চম্বল);  ‘বেলাবেলি আসতে যদি’ (নিশিকন্যা); ‘যখন ‘তোমার গানের বেদন’ (প্রক্সি); ‘রূপ নেই জাদু দিয়ে’ (অমর কণ্টক); ‘ও পাখি উড়ে যায়’ (জীবন রহস্য); ‘জানি না আজ যে আপন’ (অমানুষ); ‘তারে ভোলানো গেল না কিছুতেই’ (লাল কুঠি); ‘জাফরানি রং আকাশে’ (প্রহরী); ‘ কে যেন আবির ছড়িয়ে দিল’ (মোহনার দিকে); ‘তোল ছিন্ন বীণা’, ‘হায়রে কালা একি জ্বালা (একান্ত আপন)। এছাড়া ১৯৫৮ সালে প্রথম বেসিক আধুনিক বাংলা গান করেন আশা। অতঃপর পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে পূজার গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।

 

বহুমাত্রিক প্রতিভা এবং সর্বাধিক গান

আশা ভোঁসলে ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। চলচ্চিত্রের সংগীত ছাড়াও গেয়েছেন পপ, গজল, ভজন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত, কাওয়ালী, নজরুলসংগীত এবং রবীন্দ্রসংগীত। বারো হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গেয়েছেন গান। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডধারী হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৩ সালে তিনি ‘মাই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে আত্প্রকাশ করেন এবং তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।

 

নানা প্রসঙ্গ

সংগীত জীবনের সুদীর্ঘ সময়ে বহু নায়িকার লিপে শোনা গেছে আশা ভোঁসলের গান। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন আশার পছন্দের অভিনয়শিল্পী। তারা হলেন রেখা, মধুবালা এবং উর্মিলা।

আশার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন মেহেদি হাসান, গুলাম আলি এবং বড় বোন লতা মঙ্গেশকর। তবে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন কিশোর কুমার। এছাড়া হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের খুবই অনুরাগী ছিলেন আশা। তাঁর ভাষ্য মতে, ‘এই জন্মে আর ও রকম গলা শুনবার সৌভাগ্য হবে না।’ হেমন্তের গাওয়া ‘আঁচল সে কেউ বাঁনধ লিয়া...’ গানটি যৌবনে পাগলের মতো গুনগুন করে গাইতেন। 

লতার সঙ্গে আশা কয়েকটি গানও গেয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো, ‘মন কিউ বেহকা রে বেহকা আধি রাত কো’। ...‘অ্যায় মেরে ওয়তন কে লোগো’ গানটির বয়স ষাট হলো। এটি গাওয়ার কথা ছিল আশা ভোঁসলের কিন্তু গেয়েছিলেন লতা মুঙ্গেশকর।

আশার কণ্ঠ চিরসবুজ। বলা যায়, তিনি ছিলেন তারুণ্যের আঁধার। সব সময় প্রাণশক্তিতে ভরপুর। সমকালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারতেন। সেই ১৯৫০ সালে ‘ফাগুন’ ছবির ১১টি গানের সব ক’টিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আশা। নায়িকা ছিলেন মধুবালা। আবার ২০০৩ সালে ‘খোয়াইশ’ ছবির নায়িকা হলো মল্লিকা শেরাওয়াত। তার লিপেও চমৎকার মানিয়ে গেছে আশার কণ্ঠ।

 

পুরস্কার

সংগীত জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য আশা ভোঁসলে পেয়েছেন বহু পুরস্কার। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছেÑদুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আঠারোটি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার (২০০০), পদ্মবিভূষণ (২০০৮), বঙ্গবিভূষণ (২০১৮), মহারাষ্ট্র ভূষণ (২০২১)। এছাড়া তিনি দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your identity will not be published.