আমি এবং ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের রামিদার সিং, আমরা একে অপরের ভাষা না বুঝেও ভালো বন্ধু। একই অফিসে কাজ করার সুবাদে বুঝতে পারি, তিনি মোটামুটি চলার মতো ইংরেজি ভাষাটা এখনো তেমন আয়ত্ত করতে পারেন নি। তারপরও কোনো এক আশ্চর্য উপায়ে ইংরেজি ভাষাভাষী অধ্যুষিত আমাদের কর্মস্থলের প্রায় সকলের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। নয়টা-পাঁচটা অফিসের পুরোটা সময় তিনি কাজে ডুবে থাকলেও তার মুখে একটা প্রশান্তি ভরে থাকে, এবং এটি আমার কাছে তাকে আরও আকর্ষক করে তোলে। অফিসে কত রকমের রাজনীতি, পরনিন্দা, গুজব, দলাদলি, রটনা চলে। এসবের আগে, পাছে কিছুতেই তিনি নেই। তিনি সব সময় শান্ত, স্থির। তাকে আমার বৃক্ষ মনে হয়। তিনি সকলের চির বন্ধু। তার নীরব সম্পদ শান্ত মন ও শান্তি মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আপনমনে বিড়বিড় করি, কম বুঝা, কম বলা, কম জানা আসলেই অপার শান্তির।

তো, অফিসের সকলের কাছেই রামিদার নিজের মানুষ, কিংবা কাছের মানুষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি এলে সবাই আশ্বস্ত হয় বলে আমি তাকে ‘মুশকিল আসান’ বলে ডাকি। আমার দেওয়া নামের অর্থ জেনে তিনি শিশুর মতো হাসেন। অফিসে তিনি একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দেখা যায়, প্রত্যেকেরই ছোট-বড় প্রচুর ফাইফরমাশ খাটেন। এতে অবশ্য তার কোনো অভিযোগও নেই। বাইরে হয়তো ঝুমবৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস, কাঁদলেও কেউ তখন বাইরে যাবে না। কিন্তু রামিদার ঠিকই যাবেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সহকর্মীর দুপুরের খাবার রেস্তোরাঁ থেকে এনে গরম গরম তাদের হাতে হাস্যমুখে তুলে দিবেন। পোস্টঅফিসে যাওয়া, এক রুম থেকে অন্য রুমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়া, গাড়ি পরিষ্কার করা, সুপারমার্কেটে যাওয়া—সবই তিনি কপালে ভাঁজ না ফেলেই করেন। সবকিছুতে নির্লিপ্ত, নির্বাক তাকে যে কারও কাছে একজন সুখী মানুষ মনে হবে। কোনো কোনো দিন অতিরিক্ত কাজের চাপে কুঁজো হয়ে আসা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বিচলিত হয়ে ভাবি, এত ধৈর্য তিনি পান কোথা থেকে ? তার জন্য একটা টান অনুভব করি, বুঝতে পারি। প্রচন্ড ঠান্ডায় আমি কাবু হয়ে পড়লে তার ফ্লাস্ক থেকে আমাকে এলাচ চা পান করতে দেন। তিনিও অন্যদের থেকে আমাকে আলাদাভাবে দেখেন, স্নেহ করেন।
ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক একটা বাজে রামিদারের সঙ্গে ডাইনিং হলে আমার দেখা হয়। আমরা একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাই। ইয়েস, নো, থ্যাংক ইউ এমন কয়েকটি শব্দ বলা মানুষটার মুখে এই সময় খইয়ের মতো কথা ফুটতে থাকে। হিন্দি ভাষা আমি কিছুটা বুঝলেও তিনি হিন্দি পারেন না। গত দেড় বছর ধরে তার সঙ্গে কথা বলে আমি কিছুটা পাঞ্জাবি ভাষা শিখেছি। যদিও আমার কাছে পাঞ্জাবি ও হিন্দি ভাষা একইরকম মনে হয়। যাই হোক, আমি মূলত শ্রোতা, ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে হিন্দি, পাঞ্জাবি মিলিয়ে তার কথার উত্তর দিই মাঝেমধ্যে ইয়েস, নো-এর মতো করে। তিনি যখন কথা বলেন আমার সঙ্গে তখন অবশ্য আমি কথা বলার খুব একটা সুযোগও পাই না। অবাক হয়ে ভাবি, বুকের ভেতর এমন কথার সমুদ্র নিয়ে থাকা মানুষটা কেমন করে আট-নয় ঘণ্টা চুপ থাকেন! দেশের গল্প, পরিবারের গল্প, ছেলেমেয়ে, স্ত্রীর গল্প বলার সময় তার চোখেমুখে রঙিন স্বপ্নগুলো তারাবাতির মতো ঝিলিক দিতে থাকে। তার ছেলে জার্মানি থেকে দেশে ফিরলে ধুমধামে বিয়ে দিবেন, মেয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য আইইএলটিএস (ওঊখঞঝ) করছে, স্ত্রী নতুন বিউটি পার্লার খুলেছে, সব মিলিয়ে তিনি ভীষণ খুশি। জার্মানি, ইন্ডিয়ায় অর্থ পাঠিয়ে মাস শেষে তার হাতে তেমন কোনো অর্থ থাকে না, কথাটি বলে কিছুটা সময় থেমে থাকেন। পুনরায় হেসে বলেন, এগুলো অবশ্য আমার সুন্দর আগামীর জন্য বিনিয়োগ। নন্দনকাননের মতো তার পারিবারিক জীবনের স্নিগ্ধ গল্প আমাকে মুগ্ধ করে।
ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা ধরে কাজ করা কর্তব্যপরায়ণ রামিদার খাওয়া শেষে কাজে ফিরে যান। আমি আরও কিছু সময় ডাইনিংয়ে কাটিয়ে নিজের ডেস্কে ফিরে আসি। মেশিনের মতো নিয়ম মেনে অফিসের কাজকর্ম আগে করলেও এখন আর ইচ্ছে হয় না। স্মার্টফোন হাতে নিয়ে অযথাই স্ক্রলিং করতে থাকি। কেউ অসুস্থ, কারও জন্মদিন, কেউবা নতুন বাড়ি কিনেছে। মানুষের দুঃখ-সুখে ভরা এই ভার্চুয়াল জগতেও আমার মনোসংযোগ থাকে না। আদতে, এই ভার্চুয়াল জগতটাকে কেন যেন কখনো আপন করতে পারি নি। মনে হয়, যার জীবন তার, প্রতিটি মানুষ আসলেই একা, নিঃসঙ্গ। যেখানে কেউ কাউকে সঙ্গ দিতে আসবে না, সেখানে একান্ত দুঃখ-সুখ সবাইকে জানিয়ে, কিংবা জেনে কী হবে!
বাস্তব জগৎ, ভার্চুয়াল জগতের বড় বাজার ফেলে আমার মস্তিষ্কে রামিদার ঘুরঘুর করছে। ষাট বছরের তুলনায় তার হাত এবং মুখের চামড়া বেশ উজ্জ্বল ও টানটান আছে। তিনি রোগা হয়ে যান নি। তার মাথায় আমার চেয়েও চুল বেশি। আজকাল তো আমি আয়না দেখি না। আয়নায় নিজের মুখের ভারী ভাব, চোখের নিচে কালি, কপালের বলিরেখা দেখলেই খারাপ লাগে। আমার চিন্তা-ভাবনায় বর্ষার চেয়ে খরাই বেশি থাকে। চল্লিশ পেরোতেই আমার এমন অনুভব, বেহাল দশা, অস্তিত্ব সংকটে ভুগছি, রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিশ্চয়তার ঝড়, সর্বদা মনে হয়, যে-কোনো মুহূর্তে অক্কা যাব। সেখানে রামিদারকে দেখলেই যেন একটা সুন্দর ও ফুলেল বাতাসের জানালার কপাট জোড়া খুলে যায়। এত কাজের চাপে তাকে আমি উত্তেজিত হতে দেখি না, মুখ দিয়ে কামানের গোলাও বের হয় না। আজকাল সম্পর্কে, সহাবস্থানে, কাজে, এমনকি আড্ডায়ও লক্ষ করি, সামান্য আলাপেও অপরজন পারলে গলা টিপে ধরে। একই অফিসে একই সময়ে কাজ করা আমি কখনো কখনো শাসকদলের কোনো কোনো সিদ্ধান্তের সামনে হোঁচট খাই, সংকটে ভুগি, কচ্ছপের মতো নিজ খোলসের ভেতর ডুব দিই। পাহাড়ের মতো নিশ্চুপ রামিদার তখন খরগোশের মতো লাফাতে লাফাতে রোজকার মতো একইভাবে নির্ভার কাজ করে যান। কী করে সকল কিছু অগ্রাহ্য করেন, ভেবে আশ্চর্য হই। আমার মনোজগতে তিনি এক বিস্ময়ের নাম।
সুখী মানুষ রামিদার বৃত্তান্তে অথবা ব্যবচ্ছেদে আমি যখন মজে ছিলাম, ঠিক তখনই দেখি তিনি গুনগুন করতে করতে অফিসের মেঝেতে পাতা জ্যামিতিক নকশা করা শতরঞ্জি পরিষ্কার করছেন। অথচ দুপুরে খাওয়ার পর অফিস শেষের আগে একটা অনন্ত ক্লান্তির ভারী পাথর চেপে বসে আমার বুকে। তাকে ডেকে বলি, এমন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে এত পরিতৃপ্ত থাকেন কী করে ? তিনি শব্দ করে হাসতে হাসতে বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে ও নতুন গাড়ি কিনবে। কাজ শেষে আজ ওর জন্য কিছু অর্থ পাঠাব। ছেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছে, নতুন গাড়ি কিনবে, ভেবে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। পুরো পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ ভিডিও কলে কথা বলেছি, মেয়ে বাঁশি বাজিয়ে শোনাল, ছেলে গান করেছে, কতটা সুখ জমেছে মনের ঘরে ভাষায় বুঝাতে পারব না। ছেলের গাড়ি কেনার অর্থ জোগাতে ভাবছি আগামী সপ্তাহে রাতে ওভারটাইম কাজ করব। আমি বাবা, ছেলের শখ, আহ্লাদ আমি পূরণ না করলে কে করবে!’ কথাগুলো বলে রামিদার বুনোফুলের মতো দোল খেতে খেতে চল্লিশ বাই পঞ্চাশ ফিট অফিস-ঘরের দরজা, জানালা, দেয়াল, কাচ মুছতে মুছতে চলে যান।
তিনি দৃষ্টি সীমানা থেকে আবছা হতেই এক সময়ের কাছের মানুষ, মিলিয়নিয়ার তানভীরের কথা আমার মনে পড়ে। কোথায় যেন পড়েছিলাম, বাজারে সুখ বিক্রি হলে বাবা তার বাচ্চাদের জন্য নিঃস্ব হয়ে হলেও সমস্ত সুখ কিনে নিতেন। অথচ ছোটবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত বাচ্চাদের প্রতিটি চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ, ইচ্ছের প্রতি তানভীরের চরম অবহেলা ছিল। হোক সে কোনো খেলনা কেনা, কোথাও বেড়াতে যাওয়া, ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাওয়া, সবকিছুতে ও বাচ্চাদের নিরুৎসাহিত করত, কিংবা কোনো জট পাকিয়ে বসত। স্নাতকোত্তর শেষে সন্তান কাজের প্রয়োজনে বাবার কাছে গাড়ি কিনতে সাহায্য চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ও না করে দিত। শুধু না করেই ক্ষান্ত হয় নি, কোথায় কোন গাড়ি কীভাবে এক্সিডেন্ট করেছে, নিউজ, ইউটিউব ঘেঁটে সেসব ভিডিও সন্তানের কাছে পাঠাত। বীভৎস সেসব ভিডিও দেখে সন্তান কাঁদতে কাঁদতে ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলত, ‘শুনেছি, বাবা সন্তানের প্রাচীনতম আশ্রয়, বাবা অনুপ্রেরণার উৎস, বাবাকে অনুসরণ করে সন্তান এগিয়ে যায় জীবনের কঠিন পথ। জ্ঞান হওয়ার পর হতে আজ অবধি বাবার সঙ্গে এমন কোনো স্মৃতি কেন গড়ে উঠে নি, মা ?’
সব বাবা একরকম হয় না, এই বলে সেদিন সন্তানকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করেছি। স্পষ্ট মনে আছে, সন্তানদের একেকটা ইচ্ছে মুখ থুবড়ে পড়ার পর ওরা কেমন চুপ হয়ে যেত। ওদের অসহায়ত্ব আমাকেও পোড়াত। মা হিসেবে সব সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু প্রার্থনা করেছি, ওরা নিরাপদে থাকুক, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক, স্ব নির্ভরশীল হোক। প্রার্থনা ছাড়া আমার অন্যকিছু করারও ছিল না। কারণ, অর্থনৈতিক পুরো বিষয়টা তানভীরের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। সন্তানের প্রয়োজনে কখনো কখনো অর্থ সংক্রান্ত বিষয়টা জানতে চাইলে অযথা ঝামেলা বাঁধাত বলে একসময় সেসব ছেড়ে দিয়েছি। আর্থিক বিষয়টা তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সংসারে কোনো সাধারণ বিষয়েও মতামত দেওয়ার অধিকার আমার ছিল না...।
ছুটির ঘণ্টা বাজলে ক্লক আউটের সময় রামিদারের ডাকে অতীত ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসি। কাজের পোশাক পাল্টে নেভি ব্লু জিন্স, সঙ্গে হালকা আকাশী রঙের টিশার্ট পরেছেন তিনি। তার এই বিষয়টাও প্রবলভাবে ভালো লাগে। আমি কাজের পোশাক পরেই ট্রেনে উঠে যাই। কিন্তু, তিনি পরিপাটি হয়ে ঘরে ফিরেন। অত্যন্ত সাধারণ হয়েও তার এমন সুখী জীবনযাপন আমার ওপর কী রকম যেন একটা প্রভাব ফেলেছে, তা ঠিক বোঝাতে পারব না। তার সঙ্গ, এবং তার সঙ্গে গল্প করতে, সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে, এটা বেশ বুঝি।
অফিস থেকে বেরিয়ে আমরা গল্প করতে করতে হাঁটছি ট্রেন স্টেশনের দিকে। ‘ট্রাম্প আমার জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে’ হঠাৎ রামিদারের এমন কথায় আমি চমকে গিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে যাই। কীসব আবোল তাবোল বকছেন ? কীভাবে ? আপনি ঠাট্টা করছেন আমার সঙ্গে ? ভুরু কুঁচকে আমি একসঙ্গে তাকে অনেক প্রশ্ন করি। তিনি মুচকি হেসে বলেন, ‘ঠাট্টা করছি না, বোন। যা সত্যি তাই বলছি। গত সাতটা বছর বৈধ কাগজপত্রের আশায় নিউইয়র্কে কাটিয়ে দিয়েছি। বউ, বাচ্চার কথা উপেক্ষা করে আইনজীবীর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছি, পরিবারের কথা না শুনে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। স্বীকার করছি, অর্থের নেশা কিংবা লোভটাও মাথায় ঝেঁকে বসেছিল। যে-কোনো নেশা খারাপ। তবে জগতে অর্থের নেশার চেয়ে ভয়ংকর নেশা বোধহয় আর নেই। নিউইয়র্কে গাধার মতো যে শ্রম দিচ্ছি, এই শ্রম আমার দেশে দিলে এখানকার মতো অর্থ উপার্জন না হলেও মন্দ হতো না। গত মাসে টেক্সাসে বসবাসরত আমার দুই বন্ধুকে আইস অত্যন্ত অমানবিকভাবে ইন্ডিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। ওদের অসম্মান দেখে ট্রাম্পের আইস ধরার আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আমি নিজেই কোর্টের কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আজ থেকে এক মাস বারো দিন পর আমার ছুটি। দেশে গিয়ে ছোট্ট একটা পিজা দোকান দিব। আমার সকল সুখের উৎস আমার পরিবারের সঙ্গে থাকব, ভয়ে সারাক্ষণ চুপসে থাকব না, প্রাণ খুলে নিজ ভাষায় কথা বলব, ভাবতেই বুকে আনন্দের শিহরণ জাগে। আমার দেশ, ফসলের মাঠ, চেনা পথ, পাখির ওড়াউড়ি, মুক্ত চরাচর, মুক্ত আমি, আমার ছুটি...।’
তার কথা শেষ না হতেই এফ ট্রেন চলে আসে। তিনি লাফাতে লাফাতে ট্রেনে উঠে যান। তার মুখে আমি তখন চাঁদের আলো দেখি। যে আলোতে ভেসে যাচ্ছে আমার হৃদয়ের পোড়া দাগও। আমার ছুটি না হলেও তার ছুটির আনন্দ আমার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তার সহাস্য মুখচ্ছবি আমার চোখের মণিতে প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল। ‘কুহু কুহু কোকিল ডাকে, ফোটে ফুল শাখে শাখে’ আপনমনে গুনগুন করতে থাকি মুক্ত আকাশের দিকে চেয়ে, আমার গন্তব্যমুখী ট্রেনের বহু যাত্রীর ভিড়ে। ক্লান্ত যাত্রীদের কেউ কেউ তখন একটু স্নেহ, একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, একটু মনোযোগের সাথে আমার দিকে নীরবে তাকালে, অপার আনন্দে আমার শূন্য মন ভরে ওঠে!
Leave a Reply
Your identity will not be published.